গতকাল ডেট্রয়েটের রেনেসাঁ হাই স্কুলে আয়োজিত ‘স্টেট অব দ্য স্কুলস’ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট নিকোলাই ভিটি/Jennifer Pignolet, The Detroit News
ডেট্রয়েট, ৩০ জানুয়ারি : বৃহস্পতিবার রাতে ডেট্রয়েটের শীর্ষ শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, শহরের নথিবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অকল্পনীয়’, ‘বিপথগামী’ ও ‘অ-আমেরিকান’ পদক্ষেপ শিশুদের স্কুলে আসাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলস কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্টের (ডিপিএসসিডি) সুপারিনটেনডেন্ট নিকোলাই ভিটি জানান, অভিবাসন কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো স্কুল ভবনে প্রবেশের চেষ্টা না করলেও দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটে নজরদারি ও তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক আতঙ্কে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। তাদের আশঙ্কা, সন্তানসহ তারাও যেকোনো সময় আটক হতে পারেন।
এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ অভিবাসী এলাকায় এবং পুরো জেলাজুড়েই স্কুলে উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানান ভিটি। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিকেই—গত বছরের জানুয়ারি থেকে—এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক বছর পরও, মিনিয়াপলিসসহ বিভিন্ন শহরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সক্রিয় উপস্থিতির কারণে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে।
রেনেসাঁ হাই স্কুলে আয়োজিত বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য স্কুলস’ ভাষণে ভিটি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন বা দেশটি যদি কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাসও করে, তবুও আইসিই যেভাবে এই নীতি বাস্তবায়ন করছে, তা অকল্পনীয় ও বিভ্রান্তিকর। এটি আমাদের সম্প্রদায় ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের নিজেদের পথ খুঁজে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই অভিবাসন দমন অভিযান কার্যত দেশের ও শহরের নথিবিহীন অভিবাসীদের ওপর একটি ‘আক্রমণ’, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েটের ঘনবসতিপূর্ণ অভিবাসী এলাকাগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। “আমরা এখন এমন এক অ-আমেরিকান বাস্তবতার মধ্যে বাস করছি, যেখানে শিশু ও পরিবারের কল্যাণ উপেক্ষিত,” বলেন ভিটি। “এটি আদৌ এই দেশের অগ্রাধিকার কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভিটি নিশ্চিত করেন, অভিবাসন কার্যক্রম সরাসরি স্কুলে উপস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, “বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ডেট্রয়েট ও অন্যান্য অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পরিবারগুলো সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আগে বারবার ভাবছে—কখন বাড়ি থেকে বের হবে, আশপাশে আইসিই আছে কিনা। এই ভয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিকে স্পষ্টভাবে প্রভাবিত করছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে আমরা এই প্রবণতা দেখে আসছি।”
গত শরতে ডিপিএসসিডি অভিবাসী শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়ে। তখন শিক্ষক ও কমিউনিটির সদস্যরা বোর্ডের কাছে কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ এবং পরিবারগুলোর জন্য আরও সম্পদের দাবি জানান।
তৎকালীন ডিপিএসসিডি শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি বিশপ কর্লেটা জে. ভন স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালে ডেট্রয়েট ‘অভয়ারণ্য জেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই নীতিমালার আওতায় আদালতের পরোয়ানা ছাড়া কোনো অভিবাসন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে স্কুলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না এবং শিক্ষার্থীদের তথ্যও শেয়ার করা হয় না। “আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি,” তখন বলেন ভন। “সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আমরা যথাসাধ্য প্রস্তুতি নিয়েছি।”
জেলাটি সম্প্রতি একটি তথ্যপুস্তিকাও প্রকাশ করেছে, যেখানে অভিবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগে থাকা পরিবারগুলো কমিউনিটিতে কোথায় ও কীভাবে সহায়তা পেতে পারে—সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুস্তিকাটি স্কুলগুলোতে প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ভিটি তার বক্তৃতায় স্কুলে উপস্থিতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, গত বছর ডেট্রয়েটের ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনুপস্থিত ছিল—অর্থাৎ তারা শিক্ষাবর্ষের ১০ শতাংশেরও বেশি দিন স্কুলে যায়নি। যদিও এই হার আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। “৬১ শতাংশ এখনও অত্যন্ত বেশি,” বলেন ভিটি। “আমাদের ভাবতে হবে, কীভাবে এই হার আরও কমানো যায়, যাতে শিক্ষার্থীরা বেশি দিন স্কুলে উপস্থিত থাকে।”
তিনি বলেন, অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ ছাড়াও পরিবহন সমস্যাসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এ প্রেক্ষাপটে, হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সিটি বাস পাসের পরিবর্তে হলুদ বাস ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে—যাতে দেখা যায়, এটি উপস্থিতি বাড়াতে কতটা সহায়ক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগের যৌক্তিকতা তৈরি হয় কিনা।
Source & Photo: http://detroitnews.com
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :